প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 18, 2026 ইং
মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে এ
লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজাম্মান, প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালামসহ উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
লাইব্রেরির উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়। প্রধান অতিথি ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষার প্রসারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
‘বর্ণগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপনায় ব্যতিক্রমী এ প্রকল্পটি চালু করেছেন তরুণ শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী জাহেদুল ইসলাম।
জানতে চাইলে জাহেদুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত পৃষ্টপোষকতায় এবং ‘বর্ণগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপনায় এই ব্যতিক্রমী প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরির বিশেষত্ব হলো পাঠকরা ঘরে বসেই অনলাইনে এর বিশাল সংগ্রহশালা দেখতে পারবেন এবং পছন্দের বইটি পড়ার জন্য বুকিং দিতে পারবেন। পরবর্তীতে লাইব্রেরির ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাঠকের দোরগোড়ায় বই নিয়ে পৌঁছে যাবে।
ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির স্বপ্নদ্রষ্টা জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, 'আমরা চাই গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে বইকে সহজলভ্য করতে। বর্তমান যুগে আমাদের সন্তানরা স্মার্টফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলা আর শিশুদের স্মার্টফোনের আসক্তি কমিয়ে মূল্যবোধসম্পন্ন ও জ্ঞানমনস্ক একটি প্রজন্ম তৈরি করা। মাস্টার আবদুচ ছালাম স্যারের আদর্শকে সামনে রেখে আমরা এই জ্ঞান বিলানোর আন্দোলন শুরু করলাম।'
জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে পাইলটিং ভিত্তিতে এই কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে লাইব্রেরি ভ্যানটি নিয়মিতভাবে উপজেলার প্রধান বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রদক্ষিণ করবে। প্রতিটি স্কুলে একজন 'বুক ক্যাপ্টেন' ও একজন সমন্বয়ক শিক্ষক এই কার্যক্রম তদারকি করবেন। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের জন্য বছর শেষে বিশেষ পুরস্কার ও টি-শার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাহেদুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়েছে।ভবিষ্যতে দাতা এবং শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট